Homeসারাদেশবৃষ্টি ও পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সহস্রাধিক ঘর বিধ্বস্ত

বৃষ্টি ও পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সহস্রাধিক ঘর বিধ্বস্ত

বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশি দুই নাগরিকসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১২০০ এর বেশি বসতঘর বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগামী ২-৩ দিন পর্যন্ত মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কারণে পাহাড় ধসের আশংকা থাকায় কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে মাইকিংসহ প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সংশ্লিষ্ট এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলো।

গেল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬৩ মিলিমিটার। কখনও ভারী, আবার কখনও মাঝারি আকারের বৃষ্টির কারণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাঁচটি স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দু’জন স্থানীয় বাসিন্দা ও অপর আটজন রোহিঙ্গা রয়েছে।

thumbnail_2-2406190448

গেল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উখিয়ার ১, ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ পাহাড় ধস ঘটে। এর মধ্যে ১-ওয়েস্ট নম্বর ক্যাম্পে ১ জন, ৮ নম্বর ক্যাম্পে ১ জন, ৯ নম্বর ক্যাম্পে ৩ জন, ১০ নম্বর ক্যাম্পে ৪ জন ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা দানকারী জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলোর দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের ৩৩টি শিবিরে প্রায় ৭ হাজার ৭৯৪ জন শরণার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যার মধ্যে আনুমানিক ১ হাজার ১৯১টি আশ্রয়ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান পানি ও ভূমিধসে শিক্ষাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মসজিদ, ল্যাট্রিন, পানির উৎস এবং গোসলখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।thumbnail_IMG-20240619-WA0014রোহিঙ্গারা বলছেন, এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে এত বেশি প্রাণহানি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগে ঘটেনি। ক্যাম্পগুলোতে এখনও অসংখ্য রোহিঙ্গা পরিবার পাহাড় ও ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তারা নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থার দাবি জানান।

এ নিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গেল বুধবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ইতোমধ্যে ক্যাম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ৫০০ পরিবার ও বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আরও যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তাদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।thumbnail_images_-_2024-06-20T203231.897এদিকে, কক্সবাজার জেলাব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার দুপুর থেকে চলছে মাইকিংসহ সচেতনামূলক প্রচারণা। জেলা সদরসহ উপজেলা পর্যায়েও তৎপরতা চলছে।thumbnail_images_-_2024-06-19T105512.289আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলার পাশাপাশি আগামী ২ অথবা ৩ দিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন