Homeজাতীয়প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ থেকে ১১ জুলাই বেইজিং সফরে যাচ্ছেন যার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। এর আগে শেখ হাসিনা পাঁচ বার চীন সফর করেছেন। তবে এবারের সফরটিকে ভিন্ন মাত্রার গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জটিল ভূ-রাজনৈতিক রসায়ন, তিব্বত ও দক্ষিণ চীন সমুদ্র নিয়ে জটিলতা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে এই সফরকে আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে ভিন্নভাবে দেখছেন তারা। তাদের মতে এ সফরে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনার সুযোগ থাকবে।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘১০ বছর আগেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক অবস্থা তেমন প্রভাব ফেলতো না। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অনেকটা নির্ভর করে বেইজিংয়ের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লি বা বেইজিংয়ের সম্পর্কের ওপর। এটি আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।’

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশি ফায়েজ আহমেদ বলেন, ‘তিনটি দেশ ভিন্ন ভিন্ন কারণে বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেগুলো হচ্ছে – ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।’

বাংলাদেশের বৃহৎ একটি উন্নয়ন অংশীদার চীন এবং এবারের সফরে অর্থনেতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আলোচনার সুযোগ আছে বলে তিনি জানান।

সফরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

এখন পর্যন্ত যে বিষয়গুলোকে এই সফরে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে– পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বেইজিংয়ের সহযোগিতা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে কাজ করতে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে।

৫০০ কোটি ডলার সমমূল্যের ঋণ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওই ঋণের জন্য চীনের প্রস্তাবিত সুদের হার কমানোর অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। এটির বিষয়ে বেইজিংয়ে সুরাহা হওয়ার বিষয়ে ঈঙ্গিত করেছে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র।

মেট্রোরেল-২ প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ থাকার সম্ভাবনা আছে। তবে সরাসরি হয়তো ওই প্রকল্পের নাম না থেকে ভিন্নভাবে উল্লেখ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনেকগুলো প্রকল্পের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী। কিন্তু সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় চীনের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে চীনের বক্তব্য ‘অবকাঠামো খাতে সহায়তায় আগ্রহ’ দিয়ে প্রকাশ করা হবে।

২০১৬ সালে দুই দেশের সম্পর্ক স্ট্র্যাটেজিক স্তরে উন্নীত করা হয়। এবারে সম্পর্ক নতুন স্তরে উন্নীত হওয়ার ঘোষণা আসতে পারে।

২০২২ সালে ঢাকা সফরকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তাদের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের বিষয়ে অবহিত করেন এবং বাংলাদেশকে এতে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। এবারের সফরে চীন তাদের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করতে পারে এবং এক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ হয়তো সতর্ক অবস্থান নেবে।

আগের প্রতিটি শীর্ষ সফরের সময়ে ঘোষিত যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে– এটি বলা ছিল। এবারের সফরেও একই কথার পাশাপাশি বাড়তি তিব্বত এবং শিনজিয়াং অঞ্চলও চীনের অংশ– এটি জুড়ে দিতে চায় বেইজিং।

কৌশলগত সম্পর্ক

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। এর মানে হচ্ছে সব বিষয় আলোচনা হবে, সব বিষয় গুরুত্ব পাবে এবং সব বিষয়ে সম্পর্ক হবে।

এ বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনকে দেখে উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশকে দেখে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে। ফলে একটি গ্যাপ আছে।’

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি অনেকটা অস্থিতিশীল এবং এ কারণে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্ক দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ অঞ্চলে ভারত ও চীন বা জাপান তাদের প্রভাব বলয় বাড়াতে চাইছে– এটি কোনও গোপন বিষয় নয় বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফর করেছিলেন এবং সেখানে দুই দেশের মধ্যে যে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল সেটির ধারবাহিকতা এখনও আছে। আমার মনে হয় এবারের সফরে সেটির পর্যালোচনা হবে এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে।’

মুনশি ফায়েজ বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের অর্থের প্রয়োজন এবং বেইজিংয়ের কাছে ওই অর্থ আছে।’

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এক্ষেত্রে ভারত ও চীন একসঙ্গে এই প্রকল্পে কাজ করতে পারে। মোংলা বন্দরে চীন ও ভারত একসঙ্গে কাজ করছে। একইভাবে তিস্তা প্রকল্পেও দুই দেশ কাজ করতে পারবে।

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন